অর্থনৈতিক বৈষম্য ও মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও চলতি বছর ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে খুচরা বিক্রি বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বাজার বিশ্লেষক প্লাটফর্ম মাস্টারকার্ড স্পেন্ডিংপালসের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ব্ল্যাক ফ্রাইডের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে দেশটিতে বিক্রি বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। খবর সিএনএন।
অ্যাডোবি অ্যানালাইটিকসের তথ্যমতে, অনলাইনে ক্রেতারা ১ হাজার ১৮০ কোটি ডলার খরচ করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। তবে মূল্যস্ফীতি হিসাব করলে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ততটা বড় নয় বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।
অর্থনীতিবিষয়ক লেখক রিক নিউম্যান বলেন, ‘আমরা যখন ৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কথা বলি, তখন ৪ দশমিক ১ শতাংশ বিক্রি বাড়ার অর্থ হলো প্রকৃত প্রবৃদ্ধি হয়তো ১ শতাংশের মতো, যা খুব বড় নয়।’
ভোক্তা আয় ও ব্যয়ে বড় ধরনের বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক বেইজ বুক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ব্যয় কমছে। বিপরীতে উচ্চ আয়ের মানুষ বিলাসপণ্য, ভ্রমণসহ নানা ক্ষেত্রে খরচ বাড়াচ্ছে।
ভোক্তা বিশেষজ্ঞ ক্লাউডিয়া লোম্বানা বলেন, ‘যাদের আয় বেশি, তারা স্বচ্ছন্দে ব্যয় করছে। কিন্তু যাদের উপার্জন কম, তারাই বাজেট ছোট করে আনছে।’
এ বৈষম্যকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন ‘কে-শেপড ইকোনমি’। অর্থাৎ আর্থিক শ্রেণীর কিছু অংশ উন্নতি করছে, অন্য অংশ পতন দেখছে। ফলে তা পুরো অর্থনীতি সমানভাবে উন্নত বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে যাদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বা বাড়ির মালিকানা রয়েছে, তারা উচ্চবিত্ত অংশ হিসেবে সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে অনেক মার্কিন মাসিক বেতনের ওপর নির্ভর করে চলছে এবং বাড়তি দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছে। নিউম্যান বলেন, ‘কে-শেপড অর্থনীতির নিচের অংশে থাকা মানুষ চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’
মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার পেছনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কও ভোক্তাদের মনে প্রভাব ফেলছে। ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের (এনআরএফ) এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ ভোক্তার ধারণা, শুল্কের কারণে দাম আরো বাড়বে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ক্রেতারা এখন বেশি সচেতন। তারা এমন দোকান খুঁজছে যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পোশাক বা ইলেকট্রনিক সামগ্রী তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। এতে ওয়ালমার্ট, টিজে ম্যাক্স ও গ্যাপের মতো চেইনগুলো লাভবান হচ্ছে। বিপরীতে টার্গেট ও বাথ অ্যান্ড বডি ওয়ার্কসের মতো ব্র্যান্ড চাপের মুখে রয়েছে।
তবু ছুটির মৌসুমে কেনাকাটার গতি অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করছে এনআরএফ। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর-ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বিক্রি বাড়বে ৩ দশমিক ৭ থেকে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এতে খাতটিতে বিক্রি বেড়ে অন্তত ১ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে।
এদিকে ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে পোশাক বিক্রিতে অনলাইনে ৬ দশমিক ১ এবং দোকানে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। থ্যাংকসগিভিং ডেতে অনলাইনে রেকর্ড ৬৪০ কোটি ডলার খরচ করেছেন ক্রেতারা। একই সঙ্গে ‘বাই নাউ, পে লেটার’ পেমেন্ট পদ্ধতির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
ক্লাউডিয়া লোম্বানা বলেন, ‘অনেকেই চলতি বছরের অক্টোবরেই কেনাকাটা শুরু করেছে। সতর্ক থাকলেও ক্রেতারা উৎসবের আমেজে অংশ নিতে চায়।’